মিডিয়াটেক vs স্ন্যাপড্রাগন vs এক্সিনোস vs হিসিলিকন? কোনটা ভালো?

আস্ সালামু ওয়ালাইকুম,

কেমন আছেন সবাই? আশাকরি ভালোই আছেন। আজ আমি আপনাদের সামনে আলোচনা করব বিভিন্ন প্রসেসর নিয়ে। কোনটি আপনার কাছে ভালো সেটি আপনি বলবেন। আশাকরি ভালোকিছু উপহার দিতে পারব। তো চলুন……

আপনি কি উপরেল্লিখিত প্রসেসরের মধ্যে কোনটা ভাল হবে জানতে চান? তাহলে আমার তথ্য আপনাকে কিছুটা হলেও সাহায্য করতে পারবে। অবশ্যই মনে রাখবেন প্রত্যেকটা প্রসেসরের ই ভিন্ন ভিন্ন মডেল আছে। এগুলোকে আসলে SOC(system on chip) বলে। SOC বলতে আসলে বোঝায়, যার মধ্যে শুধু প্রসেসরই থাকে না এর সাথে আরোও থাকে সিপিইউ, ব্লুটুথ, জিপিএস, এল টি ই, সেন্সর, ওয়াইফাই ইত্যাদি আনুষঙ্গিক উপাদান। উপরের প্রায় সব মডেলেই ARM(জানতে এখানে) আর্কিটেকচার উপস্থিত। চলুন দেখা যাক এদের মধ্যে পার্থক্য, সুবিধা ও অসুবিধা…

মিডিয়াটেক

আসলেই কি এটি খারাপ নাকি ভালো? বাংলাদেশে মিডিয়াটেক কে অনেকেই দেখতে পারে না। আসলে প্রথম প্রথম যখন অ্যান্ড্রয়েড ফোন আসলো তখন এই মিডিয়াটেক ই ছিলো আশা। পরবর্তীতে প্রসেসরের সহনীয় দাম আসার পর স্ন্যাপড্রাগন আসলো। আসলে ব্যাটারি ড্রেইন বেশি হত মিডিয়াটেকে। এটা একটা তাইওয়ান কোম্পানি যারা SOC তৈরি করে কম দামে। তাই কম দামী স্মার্টফোন গুলোতে এই প্রসেসর ব্যাবহার করা হয়। আবার বেশি দামের ক্ষেত্রেও ব্যাবহার করা হয় যেখানে হয়ত অন্যান্য দিক ভালো রেখে দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য মিডিয়াটেক ইউজ করা হয়। আসলে এটা মোবাইল কোম্পানিদের  পলিসিও হতে পারে। তাই এটা নিয়ে ঘটাবো না। সম্প্রতি ১০ কোরের প্রসেসর ও বাজারে নিয়ে এসেছে মিডিয়াটেক। মিডরেঞ্জে তারা ভালো পারফর্মেন্স এর প্রসেসর সরবরাহ করে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে মাল্টি টাস্কিং করার সময় হিট অনেক হয় এবং ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়। কিন্তু কোম্পানিটি কথা দিয়েছে তারা এই অসুবিধাটি সমাধান করবে। আরেকটি কথা সেটি হচ্ছে বয়সের সাথে সাথে প্রসেসরটির পারফর্মেন্স দ্রুত কমতে থাকে।

কোয়ালকোম স্ন্যাপড্রাগন

এটি US বেজড প্রসেসর কোম্পানি এবং এর দাম মিডিয়াটেক থেকে তুলনামুলক ভাবে বেশি। আবার কম দামের প্রসেসরও আপনি চাইলে পাবেন। স্ন্যাপড্রাগন ৮০১ ছাড়া বাকি সব গুলোতেই হিটিং প্রব্লেম নেই। আসলে এদের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে কোয়ালিটি মানে বেশি দামে High-End প্রসেসর। আপনি যদি বলেন সব দিক দিয়েই এটি বেস্ট প্রসেসর তাহলে কোন ভুল বলা হবে না। প্রসেসরটির নানাধর্মী দিক রয়েছে যার মানে হচ্ছে SOC এর প্রত্যেকটি ইউনিট স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পারে। যেমনঃ ইমেজ প্রোসেসিং ইউনিট, ছবি এবং ভিডিও গুলোকে কম ব্যাটারি ব্যাবহারের মাধ্যমে প্রসেস করতে পারে যেখানে সিপিইউ অন্য কাজ স্বাধীনভাবে করতে পারে। যদি মিডিয়াটেক এর কথায় আসি তাহলে এর সিপিইউ এবং জিপিইউ একই কাজ একসাথে করে যার ফলে হিটিং বেশি হয় এবং ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়।

স্যামসাং এক্সিনোস

স্যামসাং এর নিজস্ব তৈরিকৃত প্রসেসর। স্যামসাং ছাড়াও মেইজু তে এক্সিনস ব্যাবহার করা হয়েছে। স্ন্যাপড্রাগন এর সাথে তুলনা করলে এটিকে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী বলতে পারেন। বিভিন্ন বেঞ্চমার্কে সমপর্যায়ের প্রসেসর গুলো প্রায় গড়ে একই থাকে তাই প্রথম দ্বিতীয় নির্ধারণ করা কঠিন। তবে গ্রাফিক্স কোয়ালিটি এক্সিনসে ভালো পাওয়া যায়। তবে অনেক ইউজারদের একটা সমস্যা এটাতে, যেমন কিছু কিছু গেম এ এক্সিনস ল্যাগ করে। মুলত যারা গেম লাভার।

হিসিলিকন

এটি হুয়াওয়ে কোম্পানির তৈরি যেটা ব্যাটারি ইউজ অনেক কম করে। কিন্তু যদি পারফর্মেন্স এর কথায় আসি তাহলে ভালো চিপসেট গুলোর সাথে পিছিয়ে থাকবে। তবে তারা অবশ্যই তাদের জিপিইউ এর পারফর্মেন্স বৃদ্ধি করার চেষ্টা করছে এবং বর্তমানের প্রসেসর গুলতে আশা করা যায় এই সমস্যা আর থাকবে না। এর সাথে তারা SOC এর ইম্প্রুভমেন্ট এর কাজ ও করছে। আসলে আমার কথাই তো সব না। আপনাদের মতামত ও দরকার আছে। আপনাদের কার কোন প্রসেসরকে বেস্ট মনে হয় নিচে কমেন্ট করুন।

বি. দ্র. অনুগ্রহ করে কষ্ট করে বানানো জিনিস কেউ কপি পেস্ট করবেন না। আর আপনারা প্লিজ কমেন্ট করুন এবং আপনাদের মতামত জানান। আপনাদের মতামত আমাকে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। আপনাদের ভালো লেগেছে কিনা জানাবেন………
সবাইকে ধন্যবাদ।

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (4 votes, average: 4.00 out of 5)
Loading...

admin

If somethings happens, i must first tell you.

4 thoughts on “মিডিয়াটেক vs স্ন্যাপড্রাগন vs এক্সিনোস vs হিসিলিকন? কোনটা ভালো?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *